রাবোব্যাংকের প্রতিবেদন

ব্রাজিল হতে পারে বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ

জলবায়ু সহনশীলতার মতো গুণ ও বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী হিসেবে দেশের অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছে ব্রাজিল।

জলবায়ু সহনশীলতার মতো গুণ ও বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী হিসেবে দেশের অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছে ব্রাজিল। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক রাবোব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলে রোবাস্তা কফির উৎপাদন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে তা ২ কোটি ৪৭ লাখ ব্যাগে (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্যানুযায়ী, ভিয়েতনাম ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রায় তিন কোটি ব্যাগ রোবাস্তা কফি উৎপাদন করতে পারে।

রোবাস্তা কফির স্বাদ অ্যারাবিকা কফির তুলনায় তীব্র এবং এতে ক্যাফেইনের মাত্রা বেশি। এটি মূলত ইনস্ট্যান্ট কফি, এস্প্রেসো ব্লেন্ড এবং আইসড পানীয় তৈরিতে ব্যবহার হয়। অন্যদিকে অ্যারাবিকা কফি স্টারবাকস, নেসপ্রেসোর মতো উচ্চমানের ব্র্যান্ডগুলো ব্যবহার করে।

রাবোব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোবাস্তা কফি উচ্চ তাপমাত্রা, খরা ও রোগ প্রতিরোধে অ্যারাবিকার তুলনায় বেশি সহনশীল। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মধ্যে এটি আরো লাভজনক হয়ে উঠছে। গত ৫০ বছরে ব্রাজিলের মূল কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এ সময় গড় বৃষ্টিপাত কমেছে ৯৩-২১১ মিলিমিটার।

রাবোব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রোবাস্তা চাষের মূল কৌশল সেচ পদ্ধতি। প্রায় ৭১ শতাংশ রোবাস্তার আবাদযোগ্য জমি সেচ প্রণালিযুক্ত। ২০৪০ সালের মধ্যে এটি ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮০০ হেক্টর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোবাস্তা কফির উৎপাদন খরচ হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ ডলার। কিন্তু উৎপাদনক্ষমতা অ্যারাবিকার তুলনায় প্রায় ১৭০ শতাংশ বেশি হওয়ায় এটি চাষে বেশ সাশ্রয়ী।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ব্রাজিলে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত চারণভূমি কৃষিকাজে রূপান্তরের উপযুক্ত, যা বনভূমি ধ্বংস ছাড়া উৎপাদন সম্প্রসারণ সম্ভব করছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বনভূমি সংরক্ষণ আইন থেকে ইনস্ট্যান্ট কফিকে অব্যাহতি দেয়া হলে রোবাস্তাভিত্তিক পণ্যের চাহিদা আরো বাড়তে পারে, যা ব্রাজিলের উৎপাদন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও